সাহিত্য পত্রিকা-ই বলা যেতে পারে...

হুমায়ুন শফিক

আপনার হস্তমৈথুন

  

*** 

{ভূমিকার পূর্বে, এই লেখাটুকু ভূমিকা নয়। গল্পের ক্ষেত্রে ভূমিকা লেখা যেতে পারে। না লিখলেও ক্ষতি নেই। গল্পটি যখন পড়া শুরু করবেন, তখন নিশ্চয় বুঝতে পারবেন গল্পটি আপনার। গল্পের চরিত্রের নাম, জুনু-নুনু যাই হোক না কেন, সে যে আপনি সেটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। তখন আবার যিনি এই গল্পটি লিখেছেন তাকে গালি দিবেন না যেন। কারণ তিনি আপনাকে দেখেই গল্পটা লিখেছে। তার মানে দাঁড়াচ্ছে গল্পটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে। - এইটুকু লিখেছেন মি. কলিম } 

গল্পটি শুরু হবে এইখান থেকে- 

 গল্পের প্রথম অংশের বর্ণনা

আপনার নাম কি স্মরণ করুন? ভুলে গিয়ে থাকলে আকিকা দিয়ে একটা নাম দিয়ে নিন। ধরুণ আপনার নাম এক্স। আপনি একদিন একান্ত নিজস্ব কক্ষে বসে থ্রি এক্স দেখছেন। খুবই উত্তেজিত অবস্থা। কপালে হালকা ঘামের রেখা। কোন কিছুই আপনার কন্ট্রোলে নেই। সবকিছু যেন ঐ ল্যাপটপের স্ক্রিণের হাতে। স্ক্রিণ এখন আপনাকে কন্ট্রোল করছে। যেভাবে বলছে, আপনি সেরকমভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। শুধু একটু পার্থক্য আছে, সেটা হচ্ছে স্ক্রিণের লোকটি একজন নারীর সঙ্গে সঙ্গম করছে। কিন্তু আপনি করছেন নিজের বাম হাতের সঙ্গে। গল্পের এই মুহূর্তে হঠাৎ আপনার দরজায় কেউ কড়া নাড়ে। আপনি অস্বস্থির মধ্যে পড়ে গেলেন। কি-হবে? দরজা খুললেই তো দেখতে পাবে আপনার এই অবস্থা। যদিও আপনি হেডফোন দিয়ে থ্রি এক্সের শব্দ শুনছেন। তাই বাইরে দাঁড়ানো লোকটি এই অশ্লীল শব্দগুলো শুনতে পাবে না। কিন্তু আপনার উত্তেজিত অবস্থা তো ঠিকই টের পেয়ে যাবে। তখন কি করবেন?

সেই ঘটনাটি এখানে বলা হবে না। আপনাকে নিজেই চিন্তা করে বের করতে হবে, তখন আপনি কি করতেন? 

গল্পের দ্বিতীয় অংশের বর্ণনা

 এক্স ভাই, আপনি ভাল আছেন তো? অবশ্যই ভাল আছেন। না-হলে ঘোর বিপদ নিশ্চয় কাটিয়ে উঠতে পারতেন না। সত্যি বলতে সেই বিপদের সময় আপনাকে সাহায্য করা যেত, কিন্তু তা করা হয় নি। হয়ত আপনার বাবা তখন আপনার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল, যখন আপনি দরজা খুলে দিলেন, তিনি কিছুটা বিচলিত হয়ে গেলেন আপনার অবস্থা দেখে। হয়ত সঙ্গে সঙ্গে স্থান ত্যাগ করেছেন। কি সত্যি বললাম? কিছু বলছেন না কেন? আচ্ছা বাদ দিন। এখন থেকে মধ্যরাতে হস্তমৈথুন করবেন, কেউ ডিস্টার্ব করবে না। দিনের বেলায় নিজের রুমে কেউ এইসব করে? তারপর থেকে নিশ্চয় আপনি হস্তমৈথুনের বেলায় খুব সচেতন হয়ে গ্যাছেন। এটা খুব ভাল। 

গল্পের তৃতীয় অংশের বর্ণনা ( আরেকটা ভয়ংকর ঘটনা)

 মধ্যরাত, আপনার সামনে ল্যাপটপ (ল্যাপটপের ব্যাটারি নষ্ট। বিদ্যুৎ ছাড়া চলে না)। বিখ্যাত এক পর্ণস্টারের পর্ণ ছেড়ে আরামছে বসে বসে দেখছেন। বাম হাত দিয়ে হালকা করে লিঙ্গ ধরে রেখেছেন। ধীরে ধীরে উত্তেজিত হয়ে যাচ্ছেন। এক ঘন্টার একটা ভিডিও। প্রায় ৩৫ মিনিট দেখা শেষ। আপনি শেষ অংশটার জন্য অপেক্ষা করছেন। ধীরে সেই শুভ মুহূর্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আপনিও ক্রমে ক্রমে প্রবল উত্তেজিত হয়ে যাচ্ছেন। একচল্লিশ মিনিটের মাথায় হঠাৎ ল্যাপটপ বন্ধ হয়ে গেল। দেখলেন আলোও নিভে গ্যাছে। মাথার ওপরের ফ্যানও ঘুরছে না। এর মানে কি? তখন চিন্তা করে পাচ্ছেন না, আসলে কি হোল? এতরাতে এমন হওয়ার তো কথা না। বিদ্যুৎ চলে গেলে আপনার কিছুই করার নেই, অপেক্ষা করা ছাড়া। এই মুহূর্তে আপনি যাকে খুশি গালি দিতে পারেন। আপনার উত্তেজিত অবস্থা ক্রমেই মাটি হয়ে গেল। বিদ্যুৎ আসলে আবার শুরু থেকে শুরু। তখন আপনার মনের অবস্থা কি, তাতো আপনিই ভাল জানেন তাই না? 

গল্পের এই অংশে একটি ভাবসম্প্রসারণ: ইচ্ছা থাকিলে হস্তমৈথুন হয় 

এক্স, এখানে আপনি নেই। কারণ এটা ভাবসম্প্রসারণ। ইচ্ছা থাকিলে হস্তমৈথুন হয়, এই কথাটার ব্যাখ্যা খুবই সরলভাবে দেওয়া সম্ভব। আপনারা কেউ ভাববেন না যেন খুব বড়-সড় একটা বর্ণনা দিব। খুবই ছোট বর্ণনা। শুধু এইটুকুই বোঝাব যে ইচ্ছে থাকলে হস্তমৈথুন সম্ভব। কিভাবে? শুনুন তাহলে, উপরের যে কয়টা ভয়ংকর পরিস্থিতি আপনাকে পার করতে হয়েছে, তার মধ্যে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়া একটি। তখন আপনি কি করবেন? আপনার কল্পনা শক্তি যদি হয় প্রখর, তাহলে কল্পনায় সেই পর্ণস্টারকে দেখতে পারেন। তারপর নিজের কাজ দেখবেন সহজ হয়ে গ্যাছে। এটা যে আপনি করেন না, তাও তো নয়। হয়ত করেন, কিন্তু বলতে লজ্জা লাগে, কি ঠিক বলেছি? 

ধরুণ আপনার নিকট দেখার মত, পড়ার মত কিছুই নেই, কিন্তু আপনার মনে চাচ্ছে হস্তমৈথুন করবেন, তখন কি করবেন। তখন একটাই কাজ করতে পারেন, গোসলে ঢুকে যাবেন। হালকা সাবান মাখিয়ে কাজটা সারতে পারবেন বলে মনে হয়। ভাবকে আর সম্প্রসারণ করা ঠিক হবে না। তাই এখানে সমাপ্তি। 

গল্পের এই অংশ একটি পত্র, প্রাপক মি.এক্স (আপনি)

প্রিয়, এক্স, 

নিশ্চয় ভাল আছেন। ভাল না থাকার কারণ দেখছি না। আমিও খুব ভাল আছি। আমি কে সেটা জানতে চাইবেন না। যাই হোক, আপনি কি রাগ করেছেন? রাগ করবেন না। কারণ আপনার মাধ্যমে আমরা অনেক কিছুই শিখতে পারছি। 

যেমন ধরুন, আপনার হস্তমৈথুন সংক্রান্ত বিষয়গুলো সবাইকে জানাচ্ছি, তারাও সবাই সচেতন হচ্ছে। এতে করে আপনার নিশ্চয় সম্মান হানি হচ্ছে না। কারণ আপনার সঠিক নামটা ব্যবহার করছি না। কিন্তু আপনার ঘটনাগুলো বলছি শুধু। পত্রখানা পড়ে একমাত্র আপনিই বুঝবেন, আপনাকে উদ্দে্শ্য করেই এই পত্র লেখা। 

পত্রখানা আরো বড় আকারে লেখা যেত, কিন্তু তা করছি না। ছোট আকারেই লেখা ভাল। এতে করে আপনি বিরক্ত হবেন না। ভাল থাকুন, সাবধানে হস্তমৈথুন করুন। 

ইতি

আপনার প্রিয়, জেড

সরাসরি এক্সের সঙ্গে সাক্ষাৎ 

জেড: এক্স ভাই ভাল আছেন?

এক্স: জ্বি ভাল। আপনি?

জেড: আমিও ভাল। শুনলাম, আপনার ঘটনাগুলো সবাই জেনে ফেলেছে। 

এক্স: কোন ঘটনা? 

জেড: ঐ যে। সেসব আর কি? বুঝেন নাই। আপনি কি পত্রিকা পড়েন না? 

এক্স: পত্রিকায় কি আমাকে নিয়ে রিপোর্ট করেছে নাকি? 

জেড: হ্যাঁ। আপনি দেখি কিছুই জানেন না। 

এক্স: কিন্তু আমি তো কিছু করি নাই। সরল-সহজ মানুষ। কোনদিন কিছু চুরি পর্যন্ত করি নাই। 

জেড: হাহা। আপনি সত্যি সোজা মানুষ। তাই তো হস্তমৈথুন করার সময় কে আপনার ঘরে ক্যামেরা ফিট করে রেখেছে, তাও খেয়াল করেন নাই। 

এক্স: কি! আমি তো হস্তমৈথুন করি না। পাপ হয়। ইসলামে নিষেধ আছে। 

জেড: ও, তাহলে ভিডিওটা দেখেন। 

তখন জেড, নিজের ফোনটা বাড়িয়ে দেয়, এক্সের দিকে। এক্স দেখতে পায়, সে কিভাবে হস্তমৈথুন করছে। সঙ্গে সঙ্গে সে বলে উঠে, নাউযিবিল্লাহ। এইটা আমি না। 

   সমাপ্তি

প্রিয় মি. এক্স এর ভিডিও যখন সবার হাতে হাতে পৌছে গ্যাছে, তখন তিনি কি করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। সবাই যাকে এতদিন এত ভাল জানত, আজ তারা তাকে দেখেই অন্যভাবে তাকায়। যেন সে কাউকে খুন করেছে। এই চোখগুলো থেকে তিনি মুক্তি চান। 

একদিন খুব ভোরে, একটা স্যুটকেস হাতে তাকে বাসা থেকে বের হতে দেখা গেল। কিন্তু লোকজন কেউ দেখল না, দেখল একটা কুকুর। সে তাকে দেখে ঘেউ ঘেউ করে উঠল। এক্স কোনদিকে না তাকিয়ে হাঁটা শুরু করল, তার সঙ্গী হোল ঐ কুকুরটি। এক্স’র নিকট মনে হোল, মানুষের চোখের চেয়ে কুকুরের চোখ নিরাপদ। 

image1