সাহিত্য পত্রিকা-ই বলা যেতে পারে...

সম্বুদ্ধ ঘোষ

 জরা 


 ১।।


শীতাবকাশে,

আবার আমরা মলিন,

নানান রকমের কথাদের

শেষে

কেটে খাওয়া চুরুটের বাট 

ছাইদান ঘিরে

খসে পড়া নেতির অতল


ক্যাফের হলদে দেওয়ালে

বনসাই ছবি,

শুদ্ধ বীতরাগে তুমি আর

তুমি 

হিয়ার এ কেমন

রোদজলবাতাসে 

হারিয়ে যাচ্ছো 

কথাদের করমচা বনে!


২।।


অনির্দিষ্ট অন্ধকার হয়ে 

আছে 

এই ঘনিষ্ঠ আপেলবাগান,

 শূন্যের থেকে হয়েছে কত

 অবকাশচারী শূন্যযান


সমস্ত ধূর্ততা, কারুশিল্প 

প্রবাহিত জাগতিক

ঝাড়বাতিকাল,

ওয়াচম্যান ঠিকাদার

পরার্থপর

সুশীতল প্রভু 

অক্ষরবিশিষ্ট প্রাচীন পুরুষ,

 বদান্য বণিকদল

অবশ্য অন্ধকারে ঢুকে যায় 


আর তাদের নীরব

শবানুগমন মুহূর্তে

অশ্বখুরশব্দকাল থেমে যায়,

মরে যায় নিঃসঙ্গ প্রবর্তনা।  



৩।।


ইশারা কিংবা যন্ত্রনায়

উপচিয়ে পড়ে গবলেট। 


একটি নীরব বাগান জুড়ে 

আমাদের নিঃশব্দ চারণ 

ঘাসে ঘাস লেগে ওঠে

ফিসফিস


বিমুগ্ধ গ্রীষ্মদিনের বনানীতল

কপিকল জুড়ে বিগতনির্ঝর,

ডালিমবাগানে 

অচেনা শিশুদের স্বর। 



৪।।


কোথায় শেষ আছে?

বিকেলটি নিভে এলে 

কুয়াশায়

দু'একটি উদগ্র পাখির

অবরোহণ,

ডানার নরম ত্রাসে

অক্ষরবিভা-- 


যেমন নির্বান্ধব টেরেস থেকে

ওই ছেড়ে দিচ্ছো ঢালু 

কার্নিশ,

ঘাই মারা বাতাসে বাতাসে

তোমার শরীর থেকে উড়ে

যাওয়া 

সান্ধ্য বুলেটিনে

স্নান করছে মদির

মেট্রোপোলিস!



৫।। 


কেউ ফিরে গেছে প্রাজ্ঞ 

সাইকেলযানে,

অন্ধ ম্যাটাডোর গেছে 

মহাপ্রস্থানে:

হাইওয়েতে হারিয়েছো 

দিঙনির্ণয়ী।


নঞশূন্য থেকে তাই

ট্রাফিকের গিরিখাতে 

বৃষ্টি নামে;


সন্ধ্যার থোকা থোকা 

রঙ্গনফুল,

মাইলফলক ঘিরে ম্লানিমা।



৬।। 


কোনো বার্তাতীত শীতে

দীঘল হরিণীর মতো এইসব

বেতসবনের নির্জ্ঞান:


কবে যাবে শালপ্রাংশু তুমি? 

দীঘির অনচ্ছ জল।

কেন জেগে থাকি চন্দ্রাহত

আমি?

শব্দের অপার অতল। 

image3