সাহিত্য পত্রিকা-ই বলা যেতে পারে...

শ্রেয়সী চৌধুরী

  

শেষ


নেহাতই সন্ধ্যে হলো, সবাই চুপ

আলো পৃথিবীর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে ক্রমশ

চলে যাচ্ছে দূর গ্যালাক্সির ব্ল্যাকহোলে।


স্থিতি


অবাস্তব খাত যতই এগিয়ে আসে

মনরোগ বিশেষজ্ঞদের মতামত শোনা যায়, ডিজিটাল মিডিয়ায়।

বাস্তব শান্ত, সমাহিত ঝাঁপ দেয়।


বিদ্রোহ 


যে কোন বদ্বীপে বন্দরকেন্দ্রীক সভ্যতা 

দেখা যায়, কেবল উত্তর-ঔপনিবেশিক কেন, এমনকি স্বাধীন।

অথচ জলে-জঙ্গলে জাগে মাৎসন্যায়।


গুজব


জলস্ফীতি থেকে দূরে, তিমিও কম্পন

টের পার। সমুদ্রগর্ভ, লোককথা সমস্তই সিন্ধুঘোটকের কারসাজি, 

ভাবে, ভয় পায়, ইষ্টনাম জপে।


অপেক্ষা 


জলে কারা হল্লা ফেলেছে জাল।

ডিঙি আর ডগরে, মাল-মাছভাজা-ও-মোচ্ছবে।

নৌবাহিনীর আজ এই শেষ রাত।


বিপ্লব


জলধিতরঙ্গে জাগে যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিনের টিকি

ভেসে ওঠে উপকুলবর্তী আলস্য চরাচরে, নগ্ন মানুষের।

ধনতন্ত্র, আহা, এভাবেই ধূলিস্যাৎ হয়।


প্রস্তুতি 


প্ররোচনায় কান দেবেন না, বলেই

খালাশ ওরা, আমিও কানটুকু জমা দিই আনন্দাশ্রমে

পাছে কান টেনে ছিঁড়ে নেয়!


ব্রত


ঘরভর্তি, ঘরফাঁকা, যাবতীয় ওলোটপালোট এইখানে

ঘটনাঘটনের মাঝে বসে থাকে ব্যবধান, সিদ্ধান্ত নেয়,

"একটা হেস্তনেস্ত করে ফেলতে হবে।"


রঙ


বাতিল বাদামি কিছু বাক্সবন্দি হাব্জিগাব্জি

আমাদের দেরাজেও আছে, এইসব হরিরলুটের মত একদিন

লকলকে লাল, দাঙ্গাহাঙ্গামায় বয়ে যাবে।


ইতিহাস


রাস্তায় রাস্তায়, মুখ কালো করে

ঘোরে, পতাকা-প্ল্যাকার্ডে, ক্ষীনপ্রাণ, যুদ্ধবাজ মৃত জনপদ

প্রাক পৃথিবীর, এইতো প্রাচীন রাজধানী। 

image11